ওয়েবসাইট তৈরি করার আগে চারটি অবশ্য করণীয় কাজ

  • vhadmin 
ওয়েবসাইট তৈরির আগে করণীয় কাজ

বর্তমান সিএমএস ও প্যাকেজ সফটওয়্যারের যুগে কোনও ওয়েবসাইট তৈরি করা সময়ের ব্যাপার মাত্র। কিন্তু একটি সফল ওয়েবসাইট তৈরি করা খুব সহজ কাজ নয়। তাই, নতুন কোনও ওয়েবসাইটের পিছনে টাকা খরচ করার আগে চারটি বিষয় অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে। কারণ, এই প্রস্তুতি গুলো আগেভাগে না নিলে অযথাই ডোমেইন নাম রেজিস্ট্রেশন ও প্রস্তুতির পিছনে টাকা ব্যয় হতে পারে। তাই কোনও ওয়েবসাইট তৈরির আগে অবশ্যই ওয়েব সাইটের সমস্ত কন্টেন্ট ও ব্রান্ড অনুযায়ী থিম তৈরি করেই কাজে নামা উচিৎ।

এখানে আমরা ওয়েবসাইট তৈরির আগের ধাপগুলোকে ৪ ভাগে বিভক্ত করেছি এবং সে অনুযায়ী আলোচনা করছি যাতে খসড়া তৈরি থেকে শুরু করে চূড়ান্ত রূপ প্রদান করা একটি নিরবচ্ছিন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেখানো যায়।

 

১। ওয়েবসাইটের খসড়া তৈরিকরণ।

২। ওয়েবসাইটের কন্টেন্ট তৈরি করা। যেমন, আর্টিকেল, ছবি ইত্যাদি।

৩। একটি সুন্দর ও মানানসই ডিজাইন তৈরি করা।

৪। ডিজাইন অনুযায়ী থিম বানানো ও উপযুক্ত কন্টেন্টের মাধ্যমে তা প্রকাশ করা।

 

১। ওয়েবসাইটের খসড়া তৈরিকরণঃ

যেকোনো জিনিস তৈরি করতেই একটি পূর্ব পরিকল্পনা ও খসড়া তৈরির প্রয়োজন হয়। ওয়েবসাইটের ক্ষেত্রেও তা ভিন্নতর নয়। আপনার ওয়েবসাইটটি দেখতে কেমন হবে সে সম্পর্কে একই ধরনের ওয়েবসাইট ঘুরে এসে কিছু ধারণা পেতে পারেন। এই ধাপটি একটি সফল ওয়েবসাইট তৈরির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কি ধরনের ওয়েবসাইট চান, সেটি দেখতে কেমন হবে সে সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকতে হবে। ওয়েবসাইটের বিভাগ, বিষয়বস্তু ও কল টু অ্যাকশন বাটন কোথায় হবে, কেমন হবে সে অনুযায়ী একটি পূর্ব পরিকল্পনা বা খসড়া তৈরি করতে হবে। ক, খ, গ এভাবে ভাগ করে বিভিন্ন পরিকল্পনা তৈরি করে পছন্দসই পরিকল্পনাটিকে চূড়ান্ত করতে হবে। একটি ওয়েবসাইটের কয়টি পেইজ হবে এবং এবং সেসব পেইজে কি ধরনের কন্টেন্ট থাকবে, এ সবই এই পরিকল্পনার অংশ।

 

২। ওয়েবসাইটের কন্টেন্ট তৈরি করাঃ

আপনি যত সুন্দর করে ওয়েবসাইট তৈরির কথা চিন্তা করুন না কেন, উপযুক্ত ও আকর্ষণীয় কন্টেন্ট বা বিষয়বস্তু ছাড়া কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কখনোই সম্ভব নয়। তাই, এ পর্যায়ে এসে সবার প্রথমে আকর্ষণীয় ও বস্তুনিষ্ঠ আর্টিকেল বা কন্টেন্ট তৈরি করা উচিৎ, যা আপনার ওয়েবসাইটের ব্যবহারকারীদের সঠিক উত্তর বা তথ্য প্রদান করবে। আপনি যদি লেখালেখিতে ভালো না হোন তাহলে এমন প্রফেশনাল কোনও লেখকের সাহায্য নিতে পারেন। যারা আপনার হয়ে কন্টেন্ট গুলো লিখে দিবে, কিন্তু তাঁর আগে আপনি লেখককে অবশ্যই কি ধরণের কন্টেন্ট চান সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়ে দিবেন।

 

৩। একটি সুন্দর ও মানানসই ডিজাইন তৈরি করাঃ

কন্টেন্ট তৈরি হয়ে গেলে ওয়েবসাইটটি দেখতে কেমন হবে তাঁর জন্য একজন গ্রাফিক্স ডিজাইনারের সাহায্য নিতে পারেন। এ পর্যায়ের কাজটিকে ওয়েব ডিজাইন বলে। কিন্তু এই গ্রাফিক্স ডিজাইনারের অবশ্যই ওয়েব ডিজাইন সম্পর্কে মোটামুটি ধারণা থাকতে হবে। তাঁর আগে অবশ্যই আপনার খসড়া প্লানটি তাকে দেখান বা একই ধরণের ওয়েবসাইটের উদাহরন তাকে দেখাতে পারেন। আপনি ওইসব ওয়েবসাইটের থেকে ব্যাতিক্রম কি চাচ্ছেন, সেটাও তাকে ব্যাখ্যা করে বুঝিয়ে দিন। আর যদি নিজে নিজে তৈরি করেন তবে ডিজাইনটি কোনও ওয়েব ডিজাইনারকে দেখিয়ে অনুমোদন করে নিতে পারেন।

 

৪। ডিজাইন অনুযায়ী থিম বানানো ও উপযুক্ত কন্টেন্টের মাধ্যমে তা প্রকাশ করাঃ

এই ধাপে এসে ওয়েবসাইটের পরিকল্পনাকে বাস্তবে রুপান্তর করা হয়। ডিজাইন ও কন্টেন্ট অনুযায়ী উপযুক্ত থিম তৈরি করে তা বাস্তবে রূপান্তর করাই এই ধাপের অন্যতম উদ্দেশ্য ও মূল লক্ষ্য। আপনি যদি ওয়েবসাইট থিম তৈরি ও কোডিংয়ের সাথে পরিচিত না থাকেন, তবে এই ধাপে একজন ওয়েব ডেভেলপারের সাহায্য নিতে পারেন। আপনার কাঙ্ক্ষিত ডিজাইনটি তাঁর কাছে জমা দিয়ে ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করুন। এবার থিম তৈরি হলে আপনি আপনার কন্টেন্ট অনুযায়ী ওয়েবসাইটটি সাজিয়ে নিতে পারেন। যদি আপনি নির্দিষ্ট প্লাটফর্ম যেমন ড্রুপাল অথবা ওয়ার্ডপ্রেসের সাথে পরিচিত না থাকেন, তাহলে এমন কাউকে দায়িত্ব দিতে পারেন, যে কিনা এসবের সাথে পরিচিত। এতে কিছু টাকা খরচ হলেও সুন্দর ও পরিচ্ছন্নভাবে আপনার ওয়েবসাইটটি সাজানো হবে যা আপনার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য মেটাতে সক্ষম হবে।

উপসংহার:

একটি ওয়েবসাইট তৈরী করা আসলে একটি দলভিত্তিক কাজ। খসড়া পরিকল্পনা হয়তো আপনি বা আপনার সহকারীর মাথা থেকে আসতে পারে। কিন্তু সৃজনশীলতা অনুযায়ী কাজগুলো একেকজনের ভাগে বণ্টন হয়ে যায়। একজন লেখক ওয়েবসাইটের জন্য প্রয়োজনীয় বিষয়বস্তু প্রস্তুত করতে পারেন। একজন গ্রাফিক্স ডিজাইনার আপনার ওয়েবসাইটের একটি খসড়া পরিকল্পনা তৈরি করতে পারেন। এবং একজন ওয়েব ডেভেলপার পরিকল্পনা অনুযায়ী সুন্দরভাবে কোডিং করে তা বাস্তবায়ন করতে পারেন। এবার আপনি অথবা আপনার হয়ে একজন সম্পাদক ওয়েবসাইটটি সুন্দরভাবে সাজাতে পারেন। ওয়েবসাইট তৈরি করার ধাপ গুলো যাই হোক না কেন সবসময় মূল প্রতিপাদ্য বিষয়ের উপর নজর রাখতে হবে এবং কাঙ্ক্ষিত বিষয়বস্তু যাতে পাঠকের কাছে দৃষ্টিনন্দন ও ব্যবহার উপযোগী হয় সেদিকে সূক্ষ্ম দৃষ্টি রাখতে হবে। তাহলে কাঙ্ক্ষিত ফল লাভ ও উদ্দেশ্য পূরণ করা সম্ভব হবে।