কিভাবে ওয়েবসাইট থেকে পুরাতন ও স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি বিষয় বাদ দিবেন

  • vhadmin 
মারকোভ চেইন মডেল

ওয়েবমাস্টার কেন্দ্রীয় ব্লগ অনুসারে, পুরানো এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে উৎপাদিত বিষয়বস্তু গুগলের ওয়েবসাইটের মান নির্দেশিকা লঙ্ঘন করছে। একটি ওয়েবসাইটের জন্য গুগলের প্রায় ২০০ এরও বেশি র‌্যাঙ্কিং ফ্যাক্টর রয়েছে। এখন তারা সার্চ ইঞ্জিনের জন্য কোনও ওয়েবসাইটকে র‍্যাঙ্ক করতে বিষয়বস্তুর গুণমান, পঠনযোগ্যতা এবং প্রয়োজনের দিকে বেশী নজর দিচ্ছে।

সুতরাং, সার্চ ইঞ্জিনের ফলাফলে ভাল র‌্যাঙ্ক পেতে কোনও ওয়েবসাইট থেকে পুরানো এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে উত্পন্ন বিষয়বস্তু দূর করা অপরিহার্য।

বিষয়বস্তু মেরামতের পর্যায়ে যাওয়ার আগে, চলুন দেখে নেই কীভাবে আমরা পুরানো এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে উত্পন্ন কনটেন্টসমূহ শনাক্ত করবো:

কীভাবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে উত্পাদিত বিষয়বস্তু খুঁজে পাবেন?

এটি একটি বড় প্রশ্ন যে, আপনি কীভাবে ওয়েবসাইট থেকে পুরোনো এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে উত্পন্ন লেখা শনাক্ত করবেন? আপনি যদি গুগল ওয়েবমাস্টারের গুণমানের দিকনির্দেশনাগুলো পরীক্ষা করেন, তবে আপনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে উৎপন্ন কনটেন্টের সংজ্ঞা নীচের মতো দেখতে পাবেন:

গুগলের স্বয়ংক্রিয়ভাবে উত্পাদিত কনটেন্ট  এর সংজ্ঞা
এখান থেকে মানের দিকনির্দেশনার সম্পূর্ণ তালিকা দেখুন: https://support.google.com/webmasters/answer/2721306

স্বয়ংক্রিয় অনলাইন টুল এবং প্রক্রিয়া দ্বারা পাঠ্য অনুবাদ

প্রতিটি লেখক তাদের মাতৃভাষাকে অগ্রাধিকার দেয়। আমরা আমাদের মাতৃভাষা ব্যবহার করে কথা বলতে শিখি। কোনো কিছুই আমাদেরকে মাতৃভাষার মতো কোনও বিষয় প্রকাশ করতে এবং বুঝতে সাহায্য করতে পারে না।

গুগল এমন কোনও উত্স থেকে স্বয়ংক্রিয় অনুবাদকৃত সামগ্রী শনাক্ত করতে পারে যা কোনও মানুষের দ্বারা পরীক্ষা বা পর্যালোচনা করা হয় নাই। কারণ, ভাষার সাথে ভাষার অনেক পার্থক্য থাকে।

স্বয়ংক্রিয় সিস্টেমটি বাচনভঙ্গি, উদ্দেশ্য এবং সঠিক অর্থ শনাক্ত করতে অক্ষম। কখনও কখনও স্বয়ংক্রিয় অনুবাদিত কপিতে বহু ব্যাকরণগত ত্রুটি দেখা যায়।

সুতরাং, বিশেষজ্ঞ মানব পাঠকের দ্বারা প্রকাশের আগে যে কোনও বিষয়বস্তু সংশোধন করা একটি সময়োচিত সিদ্ধান্ত।

স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কনটেন্ট উৎপন্ন করা:

এটি ২০০৮ সালের একটি সুপরিচিত এসইও অনুশীলন ছিল। এর মাধ্যমে অনেকগুলো কীওয়ার্ড ব্যবহার করে কোনো কিছুর প্রাসঙ্গিকতার পরিচয় দেয়া হয়। তবে আজকাল এই অনুশীলনটি এসইওতে একটি অপরাধ, যাকে কীওয়ার্ড স্টাফিং বলা হয়।

মারকোভ চেইনের মত কীওয়ার্ডের ব্যবহার
গণিতের মারকোভ চেইনের মত কীওয়ার্ডের ব্যবহার

এই ধরনের কনটেন্ট বা লেখায় একই বিষয়কে বারবার বর্ণনা করে কীওয়ার্ডের একটি মিথ্যা ঘনত্ব ও অ্যাংকর টেক্সট তৈরি করা হয়। উদাহরণ স্বরূপ:

আমরা জানি ক সমান সমান খ হলে, খ ক এর সমান। তাই ক যে খ এর সমান তা প্রমাণ করা খুবই সহজ কারণ, ক আর খ একই মান ধারণ করছে। তবে, আমরা জানি…(একই কথা বারবার পুনরাবৃত্তি হবে)।

এই ধরনের কনটেন্টে দুই ধরনের টেক্সট থাকে। একটা মানুষের জন্য, যা খুব সংক্ষিপ্ত ও ছোট হয় এবং অন্যটি সার্চ ইঞ্জিনের জন্য, যাতে কোনও কণ্টেন্টের নিচের দিকে অনেক কীওয়ার্ড তৈরি করে মিথ্যা কীওয়ার্ড ঘনত্ব তৈরি করা হয়, যা সার্চ ইঞ্জিনে ভুল সিগন্যাল পাঠায়।

এই কীওয়ার্ডগুলো একের পর এক পড়া গেলেও পাঠকের কোনও কাজে লাগে না।

প্রতিশব্দ ব্যবহার করে পাঠ্য তৈরি করা

অনেক সময় অটোমেটিক সফটওয়্যার ব্যবহার করে কনটেন্ট তৈরি করা হয়। এই প্রক্রিয়াকে কনটেন্ট স্পিনিং বলা হয়। এতে মূল আর্টিকেলে বিভিন্ন শব্দের পরিবর্তে প্রতিশব্দ বসানো হয়। এর ফলে রচনাটি অনন্য হলেও এর মূলভাব হারিয়ে যায়।

বাজারে এমন অনেক স্পিনিং সফটওয়্যার আছে, যা কোনও রচনাকে ভুল প্রতিশব্দ ও বিভিন্ন শব্দ বাদ দিয়ে স্পিন করে থাকে।

এই ধরনের রচনা মূল শব্দ বাদ দেয়ার কারণে দুর্বোধ্য ও কঠিন হয়ে যায়। মূলভাব পরিষ্কার থাকে না। এবং পাঠক স্বাভাবিকভাবে পড়তে পারে না। গুগল এখন এই ধরনের কনটেন্টগুলোও শনাক্ত করতে পারে।

তাহলে কোনও ধারণা নেয়ার ক্ষেত্রে কী হবে:

সৃজনশীল কাজের ক্ষেত্রে, কোনো কাজ করার আগে ধারণা নেয়া বা অনুপ্রেরণা নেয়া অস্বাভাবিক নয়। সৃজনশীল মানুষেরা প্রায়ই অন্য কারো কাজ দেখে অনুপ্রানিত হয়ে নতুন কিছু তৈরি করে।

এই ধরনের ক্ষেত্রে আপনি যদি কোনও বিষয় ভালো বুঝেন ও নিজের ভাষায় তা আরো ভালোভাবে ব্যাখ্যা করতে পারেন, তাহলে কোনও কাজের ধারণা নেয়া খারাপ কিছু নয়।

তাই, কোনও রচনা রিসার্চ করে ও বিশ্লেষণ করে নিজের ভাষায় লেখা বা নতুন কোনও ধারণা দেয়ার মধ্যে দোষের কিছু নেই। তবে, শব্দ ধরে ধরে, বাক্য ধরে ধরে কখনোই রচনা পরিবর্তন করবেন না।

সার্চ রেজাল্ট এবং RSS/Atom ফিড থেকে জেনারেট হওয়া টেক্সটঃ

অনেক কনটেন্ট জেনারেশন টুল সার্চ রেজাল্ট, ও অথবা একই ধরনের অন্যান্য ওয়েবসাইটের RSS ফিড থেকে বিশেষ কীওয়ার্ডের উপর ভিত্তি করে নতুন কনটেন্ট তৈরি করে থাকে।

তবে, এই ধরনের কনটেন্ট পাঠকের কোনও কাজে লাগে না এবং নকল কনটেন্ট হিসেবে রূপান্তরিত হয়। অন্যান্য মানের মতই গুগলে নকল কনটেন্ট বা লেখা নিষিদ্ধ। যদি এক বা একাধিক ওয়েবসাইটের সাথে সামঞ্জস্য খুঁজে পাওয়া যায়, তাহলে তা নকল হিসেবে বিবেচিত হয়।

আপনার কনটেন্টের মান ও অনন্যতা যাচাই করতে আপনি বেশ কিছু প্লেজারিজম চেকার টুল ব্যবহার করতে পারেন। অনেক সময় লিখিত শব্দ অন্য কোনও ওয়েবসাইটের সাথে মিলে যেতে পারে। কারণ, ওই ওয়েবসাইটে আপনার লেখার পূূর্বেই তাঁরা হয়তোবা এগুলো নিয়ে লিখেছে বা এই শব্দগুলো ব্যবহার করেছে। তাই, আপনার ওয়েবসাইটে নকল বা অন্য ওয়েবসাইটের কনটেন্টের সাথে মিল খুঁজে বের করা বা এর পিছনে ব্যয় করাও বেশ ভালো বিনিয়োগ।

নিজের সৃজনশীলতা কাজে লাগান:

আপনি যদি সঠিকভাবে জানেন যে, আপনি কি বলছেন ও কিভাবে বলছেন, তাহলে একটি পুরাতন বিষয়ও নতুনভাবে ও নতুন ব্যখ্যাসহ বর্ণনা করা সম্ভব। যদি আপনি কোনও কঠিন ও খটখটে বিষয়েও কিছু হাস্যরস যুক্ত করেন, তবে এটা খুব প্রানবন্ত একটি লেখায় পরিণত হতে পারে।

তাই কোনও বিষয় ব্যাখ্যা করতে আপনি কি ধরনের শব্দ ব্যবহার করছেন, তা আসলে কোনও বিষয়ই নয়, যদি আপনার পাঠকরা মূল বিষয়টি বুঝতে পারে। তাই এক্ষেত্রে আপনি আপনার সৃজনশীলতাকে কাজে লাগাতে পারেন।

কয়েক জায়গা থেকে কয়েকটি লেখার অংশ নিয়ে তা জোড়া দিয়ে বানানোঃ

প্রবাদ আছে, “আয় বুঝে ব্যয় করুন”। আমি এটাকে একটু পরিবর্তন করে বলবো, “নিজের ভাবনা অনুযায়ী কনটেন্ট তৈরি করুন”।

কোনও বিষয়ে কনটেন্ট বানানো বা লেখার মত জ্ঞান না থাকলে, আগে বিভিন্ন রিসোর্স থেকে তা সম্পর্কে পূর্ণ ধারণা নিন, যাতে যা লিখতে চান, তার জন্য যথেষ্ট হয়। তবে, এখান থেকে কিছু আইডিয়া ও ঐখান থেকে কিছু আইডিয়া এমন ভাবে জোড়াতালি দিয়ে লিখবেন না।

কারণ, দিন শেষে এই ধরণের লেখা কোনও কাজে লাগে না। যতই চেষ্টা চরিত্র করে একটি কাঠামো দাড় করেন না কেন, এটা কয়েকটি জামার টুকরা মিলিয়ে বানানো জামার মতই, যা কয়েক রঙের কাপড় থেকে বানানো হয়। এই ধরনের জামা দেখতে বাজে নয় কি? অবশ্যই, “হ্যাঁ”।

আপনি কি এই ধরণের জামা পরতে পছন্দ করেন? স্পষ্টতই, “না” এমনকি আমি এটি আমার বাড়িতে পরিধান করার কথাও ভাবি না …উহ।

তাহলে, আপনি কেন আপনার ব্লগের জন্য এই ধরণের কনটেন্ট প্রস্তুত করতে চান? যতক্ষণ না কোনও বিষয়ে ভাল ধারণা না পাবেন বা কোনও বিষয় খুব স্পষ্টভাবে বুঝতে না পারবেন, সে পর্যন্ত লিখতে বসবেন না।

আপনি হয়তো প্রশ্ন করবেন, “গুগল কীভাবে শনাক্ত করবে যে আমি আমার কনটেন্টে অনুপযুক্ত ধারণা ব্যবহার করছি?”

বেশ, তাহলে গুগল যদি নকল, প্রতিশব্দ দিয়ে তৈরি, স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুবাদকৃত বা স্ক্রেপ করা কনটেন্টসমূহ ধরতে পারে, তাহলে এটা খুব সহজেই জোড়া তালি দেয়া কন্টেন্টও ধরতে পারবে।

তবে, আপনি যদি কখনো অন্য ওয়েবসাইট থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে থাকেন তবে মূল রিসোর্সের কথা যুক্ত করলে ও মান সম্মত লেখা হলে তা গুগলের সার্চ রেজাল্টের উপরের দিকে দেখানো হবে।

পুরাতন ও অপ্রচলিত কনটেন্ট:

যেসব কনটেন্টে পুরাতন ও অপ্রচলিত তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে, গুগলের সার্চ ইঞ্জিনে সেগুলো আর অগ্রাধিকার পাবে না। যত সুন্দর ও আকর্ষনীয় ভাষায় লেখা হোক না কেন, তা ধর্তব্য নয়। তাই ওয়েবসাইটের তথ্য ও কনটেন্ট নিয়মিত হালনাগাদ করা উচিৎ, যাতে এতে পাঠকের জন্য উপকারী ও হালনাগাদ তথ্যসমূহ থাকে। তা না হলে, এটা গুগলের সার্চ রেজাল্টের উপরের দিকে দেখানো হবে না।

উপসংহার:

সার্চইঞ্জিন এবং মানুষ উভয়ের জন্য দুর্দান্ত কনটেন্ট বা লেখা তৈরি করা বেশ সহজ। সর্বদা, খুব স্পষ্টভাবে একটি বিষয় বোঝার পরে লেখার চেষ্টা করুন। আপনি যদি অন্য স্থান থেকে প্রাপ্ত বিবৃতি ব্যবহার করেন তবে সেগুলোতে উদ্ধৃতি যোগ করুন। সাম্প্রতিক তথ্য এবং উপাত্ত দিয়ে আপনার ওয়েব কনটেন্ট আপডেট রাখতে মাঝে মাঝে সংশোধন ও সম্পাদনা করুন। এর ফলে আপনার কন্টেন্ট মানসম্মত হয়ে উঠবে, যা সার্চ ইঞ্জিনের উপরের দিকে দেখাতে সাহায্য করবে।

যদি আপনি দুর্দান্ত মানের সার্চইঞ্জিন বান্ধব নিবন্ধ লেখার জন্য সহায়তা চান যা কোনও নির্দিষ্ট কীওয়ার্ডের জন্য গুগলে উচ্চতর অবস্থান নিশ্চিত করবে, তাহলে, আপনি আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। আমাদের দলে কিছু বিশেষজ্ঞ রয়েছে, যারা আপনার পুরানো এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে উত্পন্ন সামগ্রী আপডেট করতে পারে এবং ১০০% সার্চইঞ্জিনবান্ধব করে তুলতে পারে। তারা আপনার কনটেন্টগুলো এমনভাবে সংশোধন ও ব্যবস্থাপনা করবে যা মানব এবং সার্চইঞ্জিন উভয়ের কাছে সমানভাবে সমাদৃত হবে।

Leave a Reply