গুগল পান্ডা কি ও এর থেকে মুক্তি পেতে কি করবেন

  • vhadmin 
Content Development for SEO

গুগল পান্ডা কি?

গুগল পান্ডা হচ্ছে একটি সার্চ ইঞ্জিন এলগরিদম, যেটা প্রথম বের হয় ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে। এই এলগরিদম অনুসারে, গুগল প্রথম পাতায় প্রদর্শিত সার্চের ফলাফল নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করে।

গুগল পান্ডা কি ও কিভাবে এ থেকে রক্ষা পাবেন।

ফলাফলস্বরূপঃ

১। এটা অনেক ওয়েবসাইটের পেইজ র‍্যাঙ্ককে নীচে নামিয়ে দেয়, বিশেষ করে যেগুলোতে “বিষয়বস্তু” খুব কম এবং না এগুলো উপকারী আর না তথ্যবহুল। কিন্তু ব্ল্যাক-হেট এসইও পদ্ধতি ব্যবহার করে পেইজ র‍্যাঙ্ক অর্জন করেছে। তারা তাঁদের পেইজ র‍্যাঙ্ক মাত্র কয়েকদিনের মধ্যেই হারায় এবং সার্চ র‍্যাঙ্ক থেকে তাঁদের কনটেন্ট সরিয়ে দেয়া হয়। গুগল শুধুমাত্র ঐ আর্টিকেলসমূহ  সার্চ রেজাল্টে দেখাতে শুরু করে, যেগুলোর শব্দসংখ্যা ৩০০ এর উপর।

২। খবর বা তথ্যবহুল ওয়েবসাইটগুলো খুব দ্রুত পেইজ র‍্যাঙ্ক পেতে শুরু করে। এবং যেসব ওয়েবসাইট তাঁদের কন্টেন্টে ব্ল্যাক-হেট এসইও ব্যবহার করেছে বা অনেক বেশী বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করছে, সেগুলো গণহারে তাঁদের পেইজ র‍্যাঙ্ক হারাতে শুরু করে।

৩। একটি পাবলিক সার্ভে অনুসারে এই পরিবর্তন ওয়েবের প্রায় ১২% সার্চ রেজাল্টের উপর প্রভাব ফেলে।

৪। তাঁর কিছু দিন পর দেখা গেলো, অনেক মানুষ গুগলে এই অভিযোগ নিয়ে এসেছে যে, তাঁদের কন্টেন্ট কপি-পেস্ট করা হয়েছে, কেবলমাত্র পেইজ র‍্যাঙ্ক অর্জন করার জন্য। পরবর্তীতে, গুগল ওয়েবসাইটের মালিকদেরকে একটি নির্দিষ্ট ফর্মে তাঁদের অভিযোগ জমা দিতে অনুরোধ জানায়, যা তাঁদেরকে কপি করা ওয়েবসাইট শনাক্ত করতে আরো ভালোভাবে সহায়তা করবে। এই রিপোর্ট ফর্মে তিন ধরনের তথ্য দেয়া বাধ্যতামূলক করা হয়ঃ

  • নির্দিষ্ট সার্চ কুয়েরী।
  • মূল কন্টেন্টের ইউআরএল।
  • নকল কন্টেন্টের ইউআরএল।

 

কিন্তু গুগল মুক্তি পাবার উপায়ও রাখলোঃ

এতক্ষন তো জানলেন, গুগল পান্ডা কি ও কিভাবে কাজ করে। এবার জেনে নিন এর হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায়। এ থেকে মুক্তি পেতে গুগল ওয়েবসাইটের মালিকদের জন্য ২৩ টি বুলেট পয়েণ্টের গাইডলাইন দিলো, যাতে একজন ওয়েবসাইটের মালিক তাঁর বিষয়বস্তুর মান নিরূপণ করতে পারে এবং একইসাথে যাতে একটি মানসম্মত ওয়েবসাইট তৈরি করতে সমর্থ হয়, সে ব্যপারেও বিস্তারিত নির্দেশিকা প্রদান করলো। একটি মানসম্মত ওয়েবসাইট তৈরি করতে এবং সার্চ র‍্যাঙ্ক নিশ্চিত করতে এই গাইডলাইনগুলো মেনে চলা আবশ্যক।

 

গুগল পাণ্ডা থেকে রক্ষা পেতে এভাবেই কনটেন্ট ডেভেলপ করতে হয়

গুগল পান্ডার খপ্পরে পড়ার নিদর্শনঃ

১। আপনার ওয়েবসাইটে নিয়মিত যে পরিমাণ ভিজিটর থাকে তা হ্রাস পাওয়া। আপনি এই জিনিষটি গুগল এনালাইটিক অথবা অন্য কোনও ওয়েব মনিটরিং রিপোর্টে লক্ষ্য করতে পারেন।

২। আপনার ওয়েবসাইটের সার্চ রেজাল্ট ইনডেক্স থেকে পুরোটা অথবা আংশিক মুছে দেয়া হবে। এটা বের করতে আপনার ইনডেক্স রেজাল্ট নিচের সার্চ টার্ম দিয়ে খুঁজে দেখুনঃ “site: yourwebsite.com”।

৩। যদি আপনি দেখেন আপনার অবস্থান সার্চের প্রথম পাতা থেকে সরে গেছে, তাহলে সম্ভবত এটা গুগল পাণ্ডা এলগরিদমের কারণে হয়েছে।

তাহলে, কিভাবে গুগল পাণ্ডার আক্রমণ থেকে মুক্তি পাবেনঃ

আপনি যদি উপরে বর্ণিত সমস্যাগুলোর কোন একটি দেখতে পান, তাহলে বুঝবেন আপনার ওয়েবসাইট গুগল পান্ডা দ্বারা আক্রান্ত। তাহলে চলুন দেখা যাক, কিভাবে এই অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে পারেনঃ

১। প্রথমত, আপনার ওয়েবসাইটের কন্টেন্টসমূহ পরীক্ষা করুন। যদি আপনার ওয়েবসাইটের বিষয়বস্তু ইংরেজী হয়, তবে কপিস্ক্যাপ ব্যবহার করে কপিরাইট ইস্যু খুঁজে বের করুন। এখন অন্যান্য ভাষাও সাপোর্ট করে।

২। আপনি যদি আপনার ব্লগ অথবা পেইজ কন্টেন্টের মূল লেখক হোন, তবে গুগল পেনালাইযড বোর্ডে একটি রিপোর্ট সাবমিট করুন। তড়িৎ সমাধান হিসেবে robot.txt ব্যবহার করতে পারেন।

৩। আপনি যদি কীওয়ার্ড স্টাফিং অথবা অন্যান্য নিষিদ্ধ বিষয়াদির অনুশীলন করে থাকেন, তাহলে এই সবগুলো ব্যপার আগে ঠিক করুন। অপ্রয়োজনীয় লিংকসমূহ মুছে ফেলুন এবং আপনার ওয়েবসাইটটিকে পরিচ্ছন্ন করে তুলুন।

৪। ৪০৪ সহ সকল অনুপলব্ধ লিংক ও খারাপ লিংকসমূহ মুছে ফেলুন।

৫। বহিরাগত সমস্ত লিংক মনিটর করুন এবং যেসব লিংক আপনার ওয়েবসাইটের সাথে সম্পর্কিত নয় সেগুলো দূর করুন ও অপসারণ করুন।

৬। আপনার ওয়েবসাইটে যদি কোনও ট্যাকনিকাল সমস্যা থাকে, তবে তা সমাধান করুন। এক্ষেত্রে মানসম্মত ওয়েবসাইটের জন্য গুগলের নির্দেশিকা অনুসরণ করুন।

৭। সামাজিক মাধ্যমে আপনার ওয়েবসাইটের উপস্থিতি বাড়ান।

এই ধাপগুলো সম্পন্ন করার পর, আশা করা যায় আপনার সাইটের সার্চ র‍্যাঙ্কিং আগের অবস্থাতেই স্থিতিশীল হবে, কিন্তু এজন্য আপনাকে কম করে হলেও তিন মাস অপেক্ষা করতে হবে, যাতে গুগল তাদের সার্চ ইঞ্জিন হালনাগাদ করতে পারে।

আপনার ওয়েবসাইটের ভিজিটর কি আশংকাজনকভাবে কমে গেছে। আপনি কি আপনার ওয়েবসাইটের সার্চ র‍্যাঙ্ক বাড়াতে চান? তাহলে আজই আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন। আমরা আপনার ওয়েবসাইটের কনটেন্ট উন্নত করার মাধ্যমে আপনাকে আরো বেশী ভিজিটর পেতে সাহায্য করবো।

Leave a Reply