ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের ক্ষেত্রে অপরিহার্য ৫ টি বিষয়

সামাজিক মাধ্যম অনেক বিষয় নিয়েই সরগরম থাকে। এর মধ্যে ভিন্ন কোনও কিছু তৈরি করাই আসলে বেশ চ্যালেঞ্জিং একটি বিষয়। বিশেষ করে যদি আপনি এমন মার্কেটিং প্লান নিয়ে অগ্রসর হোন, যা মূলত এসবের উপরেই নির্ভর করে।

কিন্তু একজন মার্কেটারের জন্য এমন অনেক অপশন আছে যা দিয়ে তাঁরা তাঁদের ব্যবসার জন্য শক্তিশালী সোশ্যাল সিগন্যাল সেলস, জনপ্রিয়তা ও ব্র্যান্ড পপুলারিটি তৈরি করতে পারেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজস্ব ঢং ও ভঙ্গিমায় কথা বলুনঃ সোশ্যাল মিডিয়াতে মানুষ একজন মানুষকে আসলে ব্যক্তিগত দৃষ্টি-ভঙ্গী থেকেই বিবেচনা করে থাকে। তাঁরা পারতপক্ষে কোনও ব্র্যান্ডের সাথে লেন-দেন করতে চায় না।

কারও সম্পর্কে সোশ্যাল মিডিয়ায় খোঁজ-খবর সাধারণত তাদেরকে আরও কাছ থেকে জানার ও বোঝার জন্যই বেশি করা হয়ে থাকে। আপনি যদি একজন সফল মানুষ হয়ে থাকেন, তবে তাঁরা আপনার সাফল্যের পিছনের কারণ জানতে চাইবে। এই পর্যন্ত পৌঁছতে আপনি কি ধরনের বাধা-বিপত্তি ও কি ধরনের সুযোগ পেয়েছেন তা তারা জানতে চাইবে।

এমনকি তাঁরা কোনও একটি পণ্য দেখেই কেবল সন্তুষ্ট হয় না, বরং এই পণ্যটি কীভাবে তৈরি হয়েছে ও কারা তৈরি করেছে সে সম্পর্কেও জানার আগ্রহ রাখে।

তাঁদের চাহিদামত আপনি কোন পণ্য সম্পর্কে রিভিউ ও কীভাবে তৈরি করা হয়, সে সম্পর্কে বিস্তারিত বিবরণ দিতে পারেন। এবং অবশ্যই এ ক্ষেত্রে আপনার নিজস্ব ভাষা ও ভঙ্গিমা ব্যবহার করেই লিখবেন।

ভিজুয়াল পোস্ট-ই সাধারণত বেশি মনযোগ আকর্ষণ করে থাকেঃ সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য উপযুক্ত পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে আপনাকে লিখিত উদাহরণের চেয়ে যেসব জিনিষ দেখা যায়, যেমন ভিডিও বা ছবির উপির বেশি নির্ভর করতে হবে। কারণ মানুষ খুব দরকারী না হলে সাধারণত শব্দ এবং লিখিত জিনিষ এড়িয়েই চলে। তাই প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো ভিজুয়াল জিনিষ দিয়ে ফুটিয়ে তুলুন।

এজন্য, ফটোশপ ব্যবহার করে আপনার প্রয়োজনীয় নকশাগুলো করে নিতে পারেন। অথবা একজন গ্রাফিক ডিজাইনারের পিছনে আপনার মার্কেটিং বাজেটের কিছু অংশ ব্যয় করতে পারেন।

আপনার গ্রাহক বা আগ্রহীদের সাথে ব্যক্তিগত ভাবে সাক্ষাৎ করতে চেষ্টা করুনঃ সোশ্যাল মিডিয়ায় সাধারণত একজন মানুষকে ব্যক্তিগতভাবে চিনতে ও জানতেই মানুষ বেশী পছন্দ করে। ফেসবুকে মানুষ সাধারণত তাঁদের চিন্তা-ভাবনাগুলো তুলে ধরে এবং তাঁদের প্রতিদিনকার ঘটনাবলী শেয়ার করে থাকে।

তাই আপনার প্রতিদিনকার অভ্যাস, আপনার দৃষ্টিভঙ্গি এবং প্রতিদিনের কিছু ছোট্ট ও সুন্দর মুহূর্ত শেয়ার করতে কখনোই ভুলবেন না। হতে পারে এটা বন্ধু বা পরিবারের সদস্যদেরকে নিয়ে নাস্তা খাওয়ার মুহূর্ত, অথবা আপনার বাগানের কিছু ফুল অথবা আপনার শিশুর সাথে কাটানো মুহূর্ত। এবং বিশ্বাস করুন আর নাই করুন, এই ধরনের বিষয়গুলো অন্য যেকোনো বিষয় থেকে আপনার অনুসরণকারীদেরকে বেশী আনন্দিত করবে।

দর্শনীয় গল্প বলার ভঙ্গিমাঃ একটি সুন্দর গল্প মানুষকে সাধারণত আপনার পোস্টটি লাইক অথবা শেয়ার করতে উদ্বুদ্ধ করে থাকে। সুন্দর গল্পের জন্যই অনেক সময় মানুষ কোনও ব্র্যান্ড বা কোনও ব্যক্তিকে অনুসরণ করে থাকে। যখন আপনি কোনও বিষয় গল্পের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলবেন, তখন তাঁরা প্রায়শই এর পরবর্তী অংশ বা এরপর কি ঘটলো তা জানতে আগ্রহী হয়ে উঠবে। তাই সঠিক ভিজুয়াল বা ছবির মাধ্যমে কোনও গল্প আরও বেশি মানুষকে সোশ্যাল মিডিয়ায় আপনার বিষয়টি দেখতে এবং সক্রিয় হয়ে উঠতে সাহায্য করবে।

মোবাইলের প্রতি মনযোগী হউনঃ প্রায় ৯৫% মানুষ এখন সাধারণত মোবাইলের মাধ্যমেই ইন্টারনেট ব্যবহার করে থাকে। যখন আপনি কোনও জিনিষ ডিজাইন অথবা উপস্থাপন করবেন, তখন এই বিষয়টি অবশ্যই মাথায় রাখবেন, “আরও ছোট ডিভাইস থেকে এই বিষয়টি কেমন দেখাবে।?”

আপনার কনটেন্ট বা বিষয়বস্তুটি আসলে কতটা বড় বা কতটা ছোট সেটা কোন বিষয়ই নয়, কিন্তু তাঁরা এটাকে কীভাবে নিচ্ছে, সেটাই মূল বিষয়। তাই আপনার ওয়েবসাইটটিকে মোবাইল-বান্ধব করে তুলুন, এবং আগের পোস্ট থেকেও ভালো কিছু দিতে চেষ্টা করুন।

আমার অভিজ্ঞতা থেকে আমি জানি যে, মানুষ সাধারণত কোনও ব্র্যান্ডের চেয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় একজন মানুষকেই বেশি মনে রাখে। তাঁরা সাধারণত কোনও সুন্দর গ্রাফিক্স বা নতুন ধরনের আইডিয়াই বেশি পছন্দ করে। তাঁরা অনেকটা আপনার প্রতিবেশীর মতই শুনতে ও জানতে চায়।

কোনও পণ্য কেনার আগে প্রায়ই তাঁরা আপনার সাথে কথাবার্তা বলতে চাইবে এবং তাঁরা স্বাভাবিকভাবেই তাঁদের চিন্তা ও অভিজ্ঞতাই এক্ষেত্রে বেশি শেয়ার করে থাকে। আপনাকে যা করতে হবে তা হচ্ছে তাঁদের বিষয়গুলো মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং সে অনুযায়ী উত্তর প্রদান করা। এছাড়া আপনি যেন কেবল বনের মধ্যে চিৎকার করছেন এবং কেউই আপনার কথা বুঝবে না।

Leave a Reply