৬ টি জনপ্রিয় ওয়ার্ডপ্রেস থিম অপশন প্যানেল দিয়ে ওয়েবসাইট থিম বানান

  • vhadmin 

ওয়ার্ডপ্রেস থিম অপশন প্যানেল প্রায় প্রতিটি প্রিমিয়াম ওয়ার্ডপ্রেস থিমেই থাকে। এগুলোর দিয়ে একজন ব্যবহারকারী থিমের বিভিন্ন সেটিংস পরিবর্তন করে অসাধারণ সুন্দর কাস্টম ক্ষমতা সম্পন্ন থিম তৈরি করতে পারেন। উদাহরনস্বরূপ, একজন ব্যবহারকারী স্বাভাবিকভাবে ওয়েবসাইটের হোমপেইজ বা বিশেষ পেইজের জন্য কাস্টম লেআউট বানাতে চাইলে তা পারবে না। কিন্তু, অপশন প্যানেলে সে বিভিন্ন সেটিংস যুক্ত করে এই কাজটি অনায়াসে করতে পারবে।

সাধারনতঃ এই সেটিংসগুলোকে ওয়ার্ডপ্রেস থিম অপশন প্যানেল বলা হয়। একটি ওয়ার্ডপ্রেস থিম অপশন প্যানেল তৈরি করতে পিএইচপি ও ওয়ার্ডপ্রেসে অত্যন্ত দক্ষ হতে হয়। এছাড়া একটি পূর্ণ অপশন প্যানেল খসড়া থেকে তৈরি করা বেশ সময় সাপেক্ষ। তাই, বিকল্প হিসেবে কিছু রেডিমেড স্ক্রিপ্ট আছে। এইসব স্ক্রিপ্ট ব্যবহার করে খুব সহজেই যেকোনো থিমের অপশন প্যানেল তৈরি করা সম্ভব। এখানে এমন কিছু ওয়ার্ডপ্রেস থিম অপশন প্যানেলের খোঁজ দেয়া হলো, যা একজন ব্যবহারকারী বা থিম ডেভেলপারের কাজে লাগবে।

৬ টি জনপ্রিয় ওয়ার্ডপ্রেস থিম অপশন প্যানেল

ওয়ার্ডপ্রেস থিম অপশন প্যানেল ফ্রি ও পেইড দুই ধরনেরই আছে। তবে আজকে আমি এমন ৬ টি জনপ্রিয় থিম অপশন প্যানেল সম্পর্কে লিখবো, যেগুলো বেশীর ভাগই ফ্রি। এর মধ্যে হয়তোবা একটি বা দুটি পেইড হতে পারে। কিন্তু মনে রাখবেন, পেইড অপশন প্যানেলের পরিমাণ কিন্তু অনেক বেশী। এই সংখ্যাটি শ’য়ের উপর। তবে, ওয়েবসাইটের জন্য অপশন প্যানেল বেছে নেয়ার আগে তা ডেভেলপ করার প্রক্রিয়া আগে দেখে নিতে হবে। তা না হলে এই স্ক্রিপ্ট গুলো কাজে লাগানো সম্ভব হবে না। এজন্য আপনাকে পিএইচপি, জাভাস্ক্রিপ্ট ও জেকুয়েরিতে দক্ষ হতে হবে।

১। অপশন’স ট্রি (Options Tree):

অপশন ট্রি হচ্ছে একটি ফ্রি প্লাগিন, যা দিয়ে যেকোনো থিমে নতুন নতুন অপশন যোগ করা যায়। এই প্লাগিনটা থিম ফরেস্টের সহযোগিতায় তৈরি। এটা দিয়ে কালার পিকার, স্লাইডার ও ক্যাটাগরি বক্সসহ আরও অনেক কিছুই তৈরি করা যায়। অপশন ট্রি যদিও একটি প্লাগিন, কিন্তু বর্তমানে এটি রিডাক্স ফ্রেমওয়ার্কের অংশ বিশেষ। অপশন ট্রি এর রেটিং প্রায় ৫ স্টারের কাছাকাছি। এটা দিয়ে একটি ওয়েবসাইটে সব ধরনের ফাংশনালিটি ও অপশন তৈরি করা যায়। তবে এই প্লাগিনটি বিগত তিনটি ওয়ার্ডপ্রেস সংস্করণের সাথে আপডেট করা হচ্ছে না। তাই ওয়ার্ডপ্রেসের বর্তমান সংস্করণের সাথে কতটুকু কাজ করবে তা নিশ্চিত নয়।

এখানে পাবেন: “https://wordpress.org/plugins/option-tree”।

২। ওয়ার্ডপ্রেস থিম কাস্টমাইজেশন এপিআই (WordPress Theme Customization API):

এটা ওয়ার্ডপ্রেস থিম কাস্টমাইজ করার জন্য ওয়ার্ডপ্রেসের একটি বিল্ট-ইন ব্যবস্থা। এটা দিয়ে কোনও পরিবর্তন করে তা থিমে প্রয়োগ করার আগেই পূর্বরূপ দেখা যায়। এটা ব্যবহার করতে কোনও প্লাগিন ইন্সটল করতে হবে না। শুধু অপশন সেটিংসগুলোর জন্য আলাদা একটি পিএইচপি ফাইল যোগ করতে হবে। অথবা ফাংশন ফাইলেই সেটিংসগুলো বিশেষ হুকের সাহায্যে লিপিবদ্ধ করে দিতে হবে। এতে কোনও সেটিংস যোগ না করলেও এর মাধ্যমে আপনি ওয়ার্ডপ্রেস ব্লগের নাম, ট্যাগলাইন, ফন্ট, ফন্টের রং এমনকি লোগো ও পটভূমির রঙ পর্যন্ত পরিবর্তন করতে পারবেন। এই এপিআই সঠিকভাবে ব্যবহার করার জন্য এর জন্য আলাদাভাবে লিখিত ডকুমেন্ট ও ডেভেলপিং প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।

বিস্তারিত এখানে পাবেনঃ “https://codex.wordpress.org/Theme_Customization_API”।

৩। রিডাক্স ফ্রেমওয়ার্ক (Redux Framework):

এটা হচ্ছে একটি শক্তিশালী ও তথ্যবহুল অপশন ফ্রেমওয়ার্ক যা কোনও থিমের প্লাগিন বা বিল্ট-ইন অপশন হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এই ফ্রেমওয়ার্কটির ডেভেলপমেন্ট ডকুমেন্টেশন অত্যন্ত বিস্তৃত, যা ডেভেলপারদের জন্য অত্যন্ত সহায়ক। রিডাক্স ফ্রেমওয়ার্কের প্রধান সুবিধা হলো এর মাধ্যমে যেকোনো পেইজ বা পোস্টে নতুন নতুন অপশন যোগ করা যায়। এমনকি এর মাধ্যমে ওয়ার্ডপ্রেসের নিজস্ব customizer প্যানেলেও নতুন নতুন ফাংশন যোগ করা যায়। রিডাক্স ফ্রেমওয়ার্কে বেশ কিছু প্রিমিয়াম এড অন আছে। যা এর ডেভেলপিং প্রসেসকে সহজ করে তুলে।

রিডাক্স ফ্রেমওয়ার্কের সব ডকুমেন্ট ও ডেভেলপিং প্রসেস নীচের লিঙ্কে পাবেনঃ “http://reduxframework.com/”

৪। অপশনস ফ্রেমওয়ার্ক (Option’s Framework):

এটি হচ্ছে এমন একটি প্লাগিন যা দিয়ে কালার পিকার, টেক্সট বক্স, ইমেজ আপলোড ও টাইপোগ্রাফি তৈরি করা যায়। এই ফ্রেমওয়ার্কটি যেকোনো মিনিমাল থিমের জন্য আদর্শ। এর জন্য শুধুমাত্র options.php  নামে আলাদা একটি পিএইচপি টেম্পলেট দরকার হবে। এই প্লাগিনটি ইন্সটল করার আগে আপনার থিমের জন্য নির্দিষ্ট অপশনগুলো options.php ফাইলে লিপিবদ্ধ করুন। প্রয়োজনে এর জন্য নির্ধারিত ডকুমেন্টেশনের সাহায্য নিতে পারেন।

এখানে পাবেনঃ “https://wordpress.org/plugins/options-framework/”।

৫। আপথিমস ফ্রেমওয়ার্ক (Uptheme’s Framework):

যেকোনো থিমে বহুমুখী অপশন যোগ করার জন্য এটি একটি যুগান্তকারী ফ্রেমওয়ার্ক। এটি দিয়ে মিডিয়া আপলোডার, কাস্টম পোস্ট টাইপ, টেক্সট বক্স ও মেটা বক্স সহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা যোগ করা যায়। সাধারনত দুই ভাবে এই ফ্রেমওয়ার্ক ব্যবহার করা যায়। আপনি সরাসরি গিটহাব থেকে ডাউনলোড করে নির্দিষ্ট কোড ফাংশন ফাইলে যোগ করতে পারেন। অথবা একটি সাব-মডিউল হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। দ্বিতীয় পদ্ধতিটি এক্ষেত্রে বেশী উপযোগী। কারণ, এক্ষেত্রে ফ্রেমওয়ার্কটি নিজে নিজে আপডেট হতে পারে। এটা দিয়ে অনেক ধরনের থিম কাস্টমাইজেশন যেমন, লে-আউট চেঞ্জ, ফন্ট ও কালার পরিবর্তন ও অন্যান্য ফাংশনালিটি যোগ করা যায়। সেই সাথে কোনও সেটিংস পরিবর্তন করে তা সংরক্ষন করার আগেই পূর্বরূপ দেখার ব্যবস্থা আছে। কিভাবে ইন্সটল করতে হয় তা জানার জন্য তাদের ডকুমেন্টেশনের সহায়তা নিতে পারেন।

বিস্তারিত এখানে পাবেনঃ https://github.com/UpThemes/UpThemes-Framework/ ।

৬। ফ্লুয়েন্ট ফ্রেমওয়ার্ক (Fluent Framework):

ফ্লুয়েন্ট ফ্রেমওয়ার্ক সবচেয়ে উন্নত এবং একটি প্রিমিয়াম ওয়ার্ডপ্রেস ডেভেলপমেন্ট ফ্রেমওয়ার্ক। এটা দিয়ে শুধুমাত্র অপশন নয় বরং কাস্টম মেটা, ইউজার মেটা ও টেক্সোনমি মেটা যোগ করাও সম্ভব। ওয়ার্ডপ্রেসে নতুন কোনও টেম্পলেট যোগ না করে ডেভেলপ করতে চাইলে এটি এক কথায় অনন্য। এই ফ্রেমওয়ার্কটি এনভেটো মার্কেটে খুব সাশ্রয়ী দামে পাবেন।

বিস্তারিত দেখুন এখানে: http://codecanyon.net/item/fluent-framework/8182629।

উপসংহার:

এছাড়াও আরও অনেক ধরনের প্রিমিয়াম ফ্রেমওয়ার্ক আছে, যা দিয়ে খুব সহজেই আপনার থিমে বিভিন্ন অপশন যোগ করতে পারবেন। আর এজন্য পিএইচপি ও ওয়ার্ডপ্রেস থিম ডেভেলপমেন্ট সম্পর্কে খুব স্বচ্ছ ও পরিস্কার ধারনা থাকতে হবে। তাহলেই আপনি এই ফ্রেমওয়ার্কগুলো ভালোভাবে কাজে লাগাতে পারবেন।

আপনি যদি এমন একজন থিম ডেভেলপার খুঁজে থাকেন, যিনি আপনার পুরনো ওয়েবসাইটে নতুন নতুন ফাংশনালিটি যুক্ত করতে পারবে। অথবা আপনার জন্য একেবারেই খসড়া থেকে নতুন একটি ওয়ার্ডপ্রেস থিম তৈরি করে দিবে। যা কেবল আপনার ব্যবসা ও ব্র্যাণ্ডের সাথে মানাবে। তাহলে, আজই আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন। আমরা আপনার জন্য সব ধরনের নতুন ফাংশনালিটি, লেআউট, কাস্টম পোস্ট টাইপ, টেক্সোনোমি ও কাস্টম টেম্পলেটসহ যেকোনো ধরনের ওয়েবসাইট তৈরি করতে সক্ষম। তাহলে আর দেরী কেন? নিজের ওয়েবসাইটটিকে নতুনভাবে সাজিয়ে নিন। এবং একটি সুন্দর ফাস্ট লোডিং, মিনিমাল রিসোর্স ওয়েবসাইট তৈরি করুন, যা আপনার সার্চ র‍্যাঙ্ক বাড়াতে কাজে লাগবে।