নতুন ব্যবসায়ের জন্য সাতটি আবশ্যকীয় ডিজিটাল মার্কেটিং পদ্ধতি

  • vhadmin 
ডিজিটাল বিপণনের লক্ষ্য

আজ আমরা নতুন কোনো ব্যবসায়ের জন্য সাতটি ডিজিটাল বিপণন পদ্ধতি সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ দিবো। বিপণনের ক্ষেত্রে সব সময়ই উপায় পরিবর্তন হয়। প্রতিটি নতুন ব্যবসায় বাজার জয়ের জন্য এই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যগুলো প্রাথমিকভাবে গ্রহণ করা যেতে পারে।

সামাজিক মাধ্যমগুলো সব সময়ই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সরগরম থাকে। এত ভিড়ের মধ্যে নতুন কিছু খুঁজে পাওয়াই আসলে অনেক চ্যালেঞ্জিং। কিন্তু সৌভাগ্যের বিষয় হচ্ছে, নতুন ব্যবসায়ের জন্য শক্তিশালী সোশ্যাল সিগন্যাল তৈরি করতে অনেক মাধ্যম আছে। আপনি সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে বিক্রয়, অন্যের কাছে পৌঁছানো ও ব্র্যান্ডের জনপ্রিয়তা বাড়াতে পারেন।

#১। নিজস্ব ভঙ্গিতে সোশ্যাল মিডিয়ায় কথা বলুন:

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষ সবসময় আপনার পিছনের গল্প জানতে চায়। তারা সাধারণত কোনও ব্র্যান্ডের সাথে লেনদেন করতে পছন্দ করে না। তারা আপনার ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প শুনতে চায়। আপনার সাফল্যের পেছনের গল্পটি কী এবং সফল হবার জন্য আপনি কি ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন। ডিজিটাল বিশ্বে মানুষ কেবল পণ্য নিয়েই সন্তুষ্ট হয় না। তারা এই পণ্যটির পিছনের গল্পও জানতে চায়। সুতরাং, আপনি কোনও পণ্যের পেছনের গল্পটি নিজস্ব পরীক্ষা নিরীক্ষা এবং স্টাইলের মাধ্যমে তাঁদের সাথে শেয়ার করতে পারেন।

#২। ভিজ্যুয়াল পোস্টগুলো মনোযোগ বেশী পায়:

আপনি যদি একটি নিখুঁত সামাজিক কৌশল তৈরি করতে চান, তবে ভিজ্যুয়াল জিনিষ শেয়ার করাই সবচেয়ে ভালো। অন্যথায়, মানুষ সাধারণত শব্দ এবং পাঠ্যকে উপেক্ষা করে। ভিডিও, ছবি, চার্ট, গ্রাফ এবং ইনফোগ্রাফিক্স ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলি ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করুন। ফটোশপ, ইলাস্ট্রেটর ব্যবহার করে আপনার গ্রাফিক্স ডিজাইন করুন। অথবা আপনার বিপণনের কিছু বাজেট গ্রাফিক্স ডিজাইনারের জন্য বিনিয়োগ করুন।

#৩। আপনার গ্রাহকের সাথে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করার চেষ্টা করুন:

সোশ্যাল মিডিয়াতে, আপনার অনুরাগীরা এবং অনুসরণকারীরা আপনার ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে সর্বদা আগ্রহী। ফেসবুকে লোকেরা সাধারণত তাদের মতামত প্রকাশ করতে পছন্দ করে। আপনি তাদের সাথে প্রতিদিনের জীবনের গল্প শেয়ার করুন। প্রতিদিনের জীবন থেকে নিজের অভ্যাস, মতামত, ছোট এবং সুন্দর কিছু শেয়ার করে নিতে দ্বিধা করবেন না। এটি এক কাপ কফি, আপনার বাগানের একটি ফুল বা আপনার সন্তানের একটি হাসিখুশি ছবি হতে পারে। ছোট বাচ্চাদের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করতে সতর্ক থাকুন। বিশ্বাস করুন; এটি আপনার অনুগামীদেরকে অন্য যে কোনও পোস্টের চেয়ে মুগ্ধ করবে এবং তাঁরা আপনার পোস্ট আরও বেশী লাইক ও শেয়ার করবে।

#৪। ভিজ্যুয়াল গল্প বলার পদ্ধতি অনুসরন করুন:

একটি ভাল গল্প সর্বদাই মানুষকে আপনার পোস্ট পছন্দ করতে এবং শেয়ার করতে আকর্ষণ করবে। মানুষ সাধারণত ব্যক্তি এবং ব্র্যান্ড লক্ষ্য করে। এবং তারা অন্য গল্প এবং আপডেটের জন্য সময়ে সময়ে আপনার পেইজ যাচাই করে। আপনি যখন কোনও ভাল জিনিস উপস্থাপন করেন, তখন তারা প্রায়শই আপনা্র পরবর্তী গল্প বা রূপরেখা সম্পর্কে জানার আগ্রহী হয়ে উঠে। একটি উপযুক্ত ভিজ্যুয়ালসহ একটি গল্প সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক বেশী লোককে সম্পৃক্ত ও অংশগ্রহণ করানোর সেরা উপায়।

#৫। আপনার মূল ফোকাসটি মোবাইলের দিকে রাখুন:

৯৫% এরও বেশি ব্যবহারকারী মোবাইল থেকে ইন্টারনেট অ্যাক্সেস করছেন। যখন আপনি কোনও নকশা তৈরি করেন বা আপনার দর্শকদের জন্য নতুন কিছু উপস্থাপন করেন। তখন, “এটি একটি ছোট ডিভাইস থেকে কীভাবে প্রদর্শিত হবে এবং তারা কী অনুভব করছে” এই বিষয়টি মনে রাখবেন। আপনার বিষয়বস্তু কত বড় বা ছোট তা বিবেচ্য নয়, তবে তারা এটি কীভাবে বোঝে তা গুরুত্বপূর্ণ। আপনার ওয়েবসাইটটিকে মোবাইল বান্ধব করে তুলুন এবং সময়ে সময়ে আপডেট করুন।

#৬। মানুষ ব্র্যান্ডের পরিবর্তে ব্যক্তিকে মনে রাখে

আমার অভিজ্ঞতা থেকে, আমি জানি যে লোকেরা সাধারণত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্র্যান্ডের পরিবর্তে কোনও ব্যক্তিকে স্মরণ করতে পছন্দ করে। তারা সুন্দর গ্রাফিক্স এবং নতুন ধারণা পছন্দ করে, আপনার গল্প শুনতে চায়, কথা বলতে চায় বা আপনার সাথে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করতে চায়। আপনার পণ্য বা পরিষেবা ব্যবহারের পরে তাদের চিন্তাভাবনা এবং অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে চায়। আপনি তাদের কথা শুনতে এবং প্রতিক্রিয়া জানাতে পারেন। তা না হলে সোশ্যাল মিডিয়ায় কেউ আপনার কথা শুনবে না।

#৭। নির্দিষ্ট ব্যক্তির জন্য পণ্য তৈরি করুন

পণ্যের বিভিন্নতা বিপণনের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। নির্দিষ্ট ব্যাক্তির জন্য তৈরি পণ্য সাধারণ পণ্যের চেয়ে ১০ গুণ বেশি দেখা হয়। ব্যক্তি বিশেষের জন্য তৈরি পণ্য লিঙ্গ, বয়স এবং মানসিক অবস্থার উপর ভিত্তি করে তৈরি করতে পারেন। সর্বদা আপনার পণ্যে তাদের ব্যক্তিত্ব প্রতিফলিত করতে চেষ্টা করুন। এর ফলে তাদের মনের সাথে একটি সংবেদনশীল সংযোগ তৈরি হবে।

উপসংহার:

ডিজিটাল বিপণনের লক্ষ্য বেশ বিস্তৃত একটি বিষয়। এর পণ্য ভেদে, বাজার ভেদে এবং শিল্প ভেদে বেশ পার্থক্য রয়েছে। তবে এই টিপসগুলি একটি নতুন ব্যবসায়ের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া বিপণনের ক্ষেত্রে কাজে লাগবে। সামাজিক মিডিয়াতে লোকেরা একত্র হয়, শেয়ার করে, কথা বলে এবং কোনও পণ্যের পর্যালোচনা দেয়। আপনার পণ্য বা পরিষেবার মান এখানে রাজা। আপনি যদি এটি সঠিকভাবে দেন, তবে আপনার বিপণনের প্রচেষ্টা ফলপ্রসূ হবে। পরের জিনিসটি হ’ল আপনার গ্রাহকদের সামনে একটি পণ্য উপস্থাপন করার জন্য আপনার পন্থা। তাদের মন এবং প্রত্যাশা বোঝার চেষ্টা করুন এবং সে অনুযায়ী আপনার পণ্যগুলি তৈরি করুন। এটি তাদেরকে আপনার পণ্যগুলো দ্রুত কিনতে ও সন্তুষ্টি প্রকাশ করতে উৎসাহী করে তুলবে।

আপনার ব্যবসায়ের জন্য ডিজিটাল বিপণনের লক্ষ্যগুলো পূরণ করতে একজন সোশ্যাল মিডিয়া বিপণনকারী নেওয়া দরকার? আপনি আমাদের পরিষেবা ব্যবহার করতে পারেন। সমস্ত দরকারী টুলস এবং গ্রাফিক্সসহ আমরা আপনাকে সাশ্রয়ী মূল্যে সোশ্যাল মিডিয়া বিপণন পরিষেবা দেবো। আমাদের পরিকল্পনা ও দাম পর্যালোচনা করুন এবং আজই সিদ্ধান্ত নিন।

Leave a Reply